ইউটিউব এসইও কিভাবে করে?

ইউটিউব এসইও কিভাবে করে?

“Great content deserves to be found.” — 

অর্থাৎ, শুধু ভালো ভিডিও বানালেই চলবে না, সেটি যেন সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছায় সেটিই আসল কৌশল।

আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন — ইউটিউবে একই বিষয়ের শত শত ভিডিও থাকা সত্ত্বেও কিছু ভিডিও লাখ লাখ ভিউ পায়, আবার কিছু ভিডিও নিঃশব্দে হারিয়ে যায়? এর কারণ কি জানেন? কারন  একটাই — ইউটিউব এসইও (YouTube SEO)!

বর্তমানে ইউটিউব হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন। তাই আপনি যদি চান আপনার ভিডিও ইউটিউব সার্চে উপরের দিকে আসুক এবং দর্শকের মনে জায়গা করে নিক, তবে সঠিক এসইও স্ট্র্যাটেজি জানা অত্যন্ত জরুরি।

 ইউটিউব এসইও কী?

সহজভাবে বললে, ইউটিউব এসইও হলো এমন এক পদ্ধতি যেখানে আপনার ভিডিওর টাইটেল, ডিসক্রিপশন,  ট্যাগ, থাম্বনেইল ও কনটেন্ট এমনভাবে সাজানো হয় যাতে ইউটিউবের অ্যালগরিদম সেটিকে সঠিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

 ইউটিউব এসইও করার ৭টি কার্যকরী ধাপ রয়েছে। এগুলো ভাল করে ফলো করলে ইউটিউব ভিডিও কে এসইও ফ্রেন্ডলি বা বেশি ভিউ করা সম্ভব। 

১.  কীওয়ার্ড রিসার্চ 

যেভাবে ব্লগ লেখার আগে উপযুক্ত কীওয়ার্ড খোঁজা হয়, ঠিক তেমনি ভিডিওর জন্যও কীওয়ার্ড রিসার্চ অপরিহার্য। কোন বিষয়ের উপর মানুষের আগ্রহ বেশি, বা ইউটিউবে কোন জিনিস গুলোর জন্য মানুষ বেশি সার্চ করে এটা নিয়ে আগে রিসার্চ করতে হবে।  যেমন আপনার ভিডিও যদি হয় “চুল পড়া রোধের ঘরোয়া টিপস”, তবে আপনি সার্চ করতে পারেন —

“চুল পড়া বন্ধ করার উপায়”

“Best hair care tips in Bangla”

২. টাইটেল এর ব্যবহার

শিরোনামই দর্শককে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করে। তাই সেখানে কীওয়ার্ড থাকলেও ভাষা যেন স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় হয়। তাই টাইটেল দেয়ার ক্ষেত্রে আপনি যে ভিডিওটি আপলোড করছেন সেই ভিডিওটি মানুষ সবচেয়ে কি লিখে বেশি সার্চ দেয় তা আপনাকে রিসার্চ করে খুজে বের করতে হবে।  যেমন আপনার টপিক যদি হয় চুল পড়া বন্ধ নিয়ে তাহলে আপনাকে দেখতে হবে মানুষ সবচেয়ে কি লিখে বেশি সার্চ করে। যেমন সবচেয়ে বেশি সার্চ করতে পারে  চুল পড়া বন্ধের উপায়। আর টাইটেল দেয়ার সময় অবশ্যই মুল কি ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। 

৩️. Description Box

ইউটিউব ভিডিও তে প্রথম দুই থেকে চার লাইন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  অনেকেই বিবরণ অংশটা গুরুত্ব দেন না, অথচ এটি ইউটিউবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ডিসক্রিপশন লিখার সময় প্রথম চার লাইনে আপনার ভিডিওর যে মুল বিষয় গুলো আছে সেগুলো আগে লিখবেন। এক্ষেত্রে আপনি একটা ট্রিকস ফলো করতে পারেন ট্যাগে যে কি ওয়ার্ড গুলো বসাবেন সেগুলো দিয়েই ডিসক্রিপশন লিখবেন। তাহলে ইউটিউব দুটোর মধ্যে  সমন্বয় খুজে পাবে। 

৪. প্রাসঙ্গিক হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার 

আপনি নিশ্চই লক্ষ্য করেছেন ইউটিউব ভিডিওতে প্রতিটিই হ্যাশ ট্যাগ করা থাকে। এটি ইউটিউব ভিডিওকে এসইও করতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাশট্যাগ মুলত টাইটেল যেখানে দেয়া হয় ওখানে ব্যবহার করা হয়।  হ্যাশট্যাগ হিসেবে সেগুলোই ব্যবহার করবেন যেগুলো মেইন কিওয়ার্ড হিসেবে আপনি টাইটেল এবং ডিসক্রিপশনে ব্যবহার করেছেন। 

যেমন : চুল পড়া বন্ধের উপায় এটার হ্যাশট্যাগ দিতে পারেন #চুলপড়াবন্ধ। আবার দ্বিতীয় ট্যাগটা এভাবে দিতে পারেন #StopHairFall 

এভাবে আপনি তিন থেকে চারটি হ্যাশট্যাগ দিতে পারেন। এরচেয়ে বেশি না দেয়াই ভাল কারন অতটা কার্যকরী হয় না। 

৫️. ফাইল নেম 

কোনো ভিডিও আপলোডের পর লক্ষ্য করবেন সেই ভিডিওর নাম সংখ্যা আকারে হয়ে যায়।  যখন কোনো ভিডিও আপলোড করতে যাবেন তখন লক্ষ্য করবেন টাইটেল এর জায়গায় কিছু সংখ্যা দেখা যায়। মুলত এটাই ভিডিওর টাইটেল হিসেবে আপলোড হয়ে যায়। তাই আপনার ভিডিওতে আপনি যে টাইটেল দিবেন ঠিক একই রকম নাম আপনার ফাইলে দিবেন। তাহলে ইউটিউব সহজে আপনার ভিডিওকে খুজে পাবে। 

৬. থাম্বনেইল

থাম্বনেইলই দর্শকের “প্রথম ইমপ্রেশন” তৈরি করে।

তাই স্পষ্ট ছবি, বড় অক্ষর, ও কনট্রাস্ট রঙ ব্যবহার করা উচিৎ। এছাড়াও ইউটউব ফাইল নেম এর মত থাম্বনেইল ও একই রকম দিবেন। এতে করে ইউটিউব তিন দিক থেকেই আপনার কি ওয়ার্ডকে সহজে এসইও করতে পারবে। 

৭. ট্যাগ

একটা ভিডিওকে সার্চ ইঞ্জিনে নিয়ে আসার জন্য বা  বেশি ভিউ পাওয়ার জন্য ট্যাগ এর অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক ইউটিউবার এটাকে ততোটা গুরুত্ব দেননা। তবে এটা আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 

ট্যাগ তৈরির জন্য আপনার টাইটেল এর সাথে মিল রেখে আপনি ট্যাগ বানাতে পারেন। তাহলে এটা ভিডিওকে সহজে র‍্যাংক করতে সাহায্য করে। আপনার টপিক কে মানুষ সম্ভাব্য কিভাবে সার্চ দিতে পারে সেগুলোই আপনি ট্যাগে বসিয়ে দিতে পারেন। তাই একটু সময় নিয়ে নিজে নিজে আপনার টপিক গুলো সার্চ করতে পারেন। ট্যাগ দেয়ার সময় বাংলা, ইংলিশ এবং বাংলিশ তিনভাবে ট্যাগ দিবেন। এতে বেশি দ্রুত আপনার ভিডিও র‍্যাংক করবে। 

উপসংহার

ইউটিউবের জগতে টিকে থাকতে হলে নিয়মিততা ও অপ্টিমাইজেশন — এই দুটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ।

“Consistency + Smart SEO = YouTube Success.”

আপনি যদি নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করেন এবং এই এসইও টিপসগুলো অনুসরণ করেন, তবে আপনার ভিডিও সার্চ রেজাল্টে উপরে উঠবে, ভিউ বাড়বে, এবং খুব শিগগিরই আপনার চ্যানেল হবে জনপ্রিয়।